Integrated Agriculture Unit
LMC Portal
Livestock Cell
Welcome
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিগত সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের দারিদ্র্যতা হ্রাস পেলেও বর্তমানে প্রায় ২৪.৩% মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে (HIES-২০১৬), যাদের অধিকাংশ গ্রামে কৃষি কাজে নিয়োজিত। এদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রাণিসম্পদ পালনের সাথে জড়িত। এছাড়াও, মোট গবাদিপ্রাণী এবং হাঁস-মুরগি-এর প্রায় ৯০% মাঝারি, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র খামারী ও ভূমিহীন পরিবার পর্যায়ে পালন করা হয়। পিকেএসএফ বিগত এক দশকের অধিক সময় ধরে বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিসমূহের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের ফলে সংগঠিত খামারীদের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মত নমনীয় শর্তে উপযুক্ত ঋণ সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি লাগসই প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করাও সম্ভব হচ্ছে। সদস্য পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পিকেএসএফ ২০০৬ সালে “মৌসুমী ঋণ কর্মসূচি” এবং ২০০৮ সালে “কৃষিখাত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি” শুরু করে। এছাড়াও, পিকেএসএফ কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প (পিএলডিপি-২, এমএফটিএস এবং এমএফএমএস) সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করেছে, যেগুলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বাস্তবায়িত হয়েছে। উল্লিখিত প্রকল্পসমূহের ইতিবাচক ফলাফল ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে পরিদৃশ্যমান। এসব প্রকল্পসমূহের মাঠ পর্যায়ে বিদ্যমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং এর সফল অভিজ্ঞতাকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পিকেএসএফ ‘সমন্বিত কৃষি ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা করে। ‘সমন্বিত কৃষি ইউনিট’-এ তিনটি খাত যথা: কৃষি খাত, মৎস্য খাত ও প্রাণিসম্পদ খাত রয়েছে যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। দেশের প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিক সংখ্যক খামারীদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় তহবিল এবং লাগসই প্রাণিসম্পদভিত্তিক প্রযুক্তি ও সেবাসমূহ পৌঁছানোর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পিকেএসএফ-এর ‘প্রাণিসম্পদ খাত’ তার প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে। বর্ণিত প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় প্রাণিসম্পদ ভিত্তিক আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য আধুনিক, লাগসই ও পরিবেশ বান্ধব প্রাণিসম্পদ পালন ভিত্তিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তার প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। ‘সমন্বিত কৃষি ইউনিট’ভুক্ত প্রাণিসম্পদ খাত পিকেএসএফ-এর আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে সরকারের সম্পূরক ও অতিরিক্ত সেবা প্রদানকারী হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ‘‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’’-এর ১৭টি অভিষ্ট-এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট ৯টি (যথাঃ ১, ২, ৩, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৫ ও ১৭ নং অভিষ্ট) অভিষ্টসহ আরো ৭টি (যথাঃ ৪, ৫, ৬, ৭, ১১, ১৩ ও ১৬ নং অভিষ্ট) অভিষ্ট অর্থাৎ মোট ১৬টি অভিষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে পিকেএসএফ-এর প্রাণিসম্পদ খাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।